পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ রোববার তার কার্যমেয়াদের শেষ দিনে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আজ (রোববার) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএম ভবনে কমিশনের তদন্ত অগ্রগতি ও চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
কমিশন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনের আগেই কমিশন তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের হাতে জমা দিতে পারে।
অন্যদিকে, আগামী সোমবার সকালে পিলখানায় শহীদ হওয়া সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গ কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন করবে। রাওয়া ক্লাবের ঈগল হলে সকাল পৌনে ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২৩ ডিসেম্বর পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সাত সদস্যের স্বাধীন জাতীয় কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক বিডিআর মহাপরিচালক এ এল এম ফজলুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশনে সামরিক বাহিনীর দুজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক, সিভিল সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা এবং পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানোর পর আজ কমিশনের বর্ধিত কার্যকাল শেষ হচ্ছে।
এর আগে গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানায়, পিলখানার হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তারা পেয়েছে। তারা আরও জানায়, এ হত্যাযজ্ঞ ছিল দীর্ঘমেয়াদি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ এবং ঘটনা ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়া ও আলামত নষ্টের চেষ্টা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এসবের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোর পরিচয়ও চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
কমিশন গঠনের আগে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের দুইটি মামলা আদালতে চলমান থাকায় আলাদা কমিশন গঠন আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। ফলে কমিশন গঠনের ‘না’ ঘোষণায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিশন গঠনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও আইন উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরিস্থিতির মুখে ১৭ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, সুধীজন, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা থাকবেন। সদস্য সংখ্যা ৫, ৭ বা ৯ যেকোনোটি হতে পারে। পরবর্তীতে আলোচনা শেষে কমিটি নয়, কমিশনই গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এর আগে, গত ১৯ ডিসেম্বর পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ মোট ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনেরা। অভিযোগে আরও নাম রয়েছে তৎকালীন প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার।