১৫ বছর বন্ধ থাকার পর জাপান কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১১ সালের ভূমিকম্প ও ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর বন্ধ থাকা কেন্দ্রটির কার্যক্রম টেপকো আবার শুরু করছে। নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত এই কেন্দ্রে বুধবার সন্ধ্যায় রিঅ্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণ রড সরানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা কেন্দ্রটি পুনরায় চালু হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে- এই আশঙ্কায় বিক্ষোভ করছেন। তীব্র শীত উপেক্ষা করে মঙ্গলবার থেকে তারা কেন্দ্রের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কাশিওয়াজাকি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ টোকিওতে যাবে, অথচ ঝুঁকি বহন করতে হবে স্থানীয়দেরই। জনমত জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দা কেন্দ্র পুনরায় চালুর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্ঘটনার আগে জাপানের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পারমাণবিক শক্তি থেকে আসত। দুর্ঘটনার পর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় পশ্চিম ও দক্ষিণ জাপানে ১৪টি রিঅ্যাক্টর পুনরায় চালু হয়েছে। কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কমপ্লেক্সে ১৫ মিটার উঁচু সুনামি প্রতিরোধক দেয়াল, জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অন্যান্য নিরাপত্তা উন্নয়ন করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলো ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকায় কেন্দ্রটি অবস্থিত হওয়ায় সেটি চালুর বিরোধিতা করে ৪০ হাজারের বেশি স্বাক্ষরসহ পিটিশন জমা দিয়েছে। অন্যদিকে, টেপকো কর্তৃপক্ষ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে জাপান সরকার পারমাণবিক জ্বালানি খাত পুনরুজ্জীবনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।