সম্প্রতি আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বৈরী ভাব বিরাজ করছে। এমন এক মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ভারতের হয়ে কথা বলাকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সে ঘটনার ধারাবাহিকতায় বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে সম্বোধন করেন। নিজের ফেসবুক আইডিতে নাজমুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।’
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন ও বিসিবির আইনি অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে বলা হলে তামিম ইকবাল বলেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান কী, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, সবকিছু ভেবেই আমি সিদ্ধান্ত নিতাম।’ সেখানে তিনি আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন।
তামিমকে ভারতীয় দালাল বলার পরদিনই বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কুল ক্রিকেটের একটি অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
অফিশিয়ালভাবে নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘আমাদের বোর্ড মিটিং আছে, ২৪ তারিখে সম্ভবত। তখন আমরা ব্যাপারটা নিয়ে আরও খোলাখুলি আলোচনা করব।’ তিনি বলেন, তামিমকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে নাজমুলকে আরও ভাবা উচিত ছিল এবং সাবেক জাতীয় অধিনায়ক হিসেবে তামিমের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন ছিল।
অপরদিকে বিসিবি পরিচালকের কাছে ওই মন্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি যা বলেছেন, তা জনগণের ভাষার প্রতিফলন। তিনি এই বিষয়ে ক্ষমা চাইতে পারবেন না।