Ridge Bangla

ঢাকায় প্রথমবারের মতো ডিএনসিসির উদ্যোগে ময়লা কুড়ানোর প্রতিযোগিতা

শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ময়লা কুড়ানোর প্রতিযোগিতা ‘ডিএনসিসি স্পোগোমি গেম ২০২৬’। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে এবং ‘ওয়ান ব্যাগ ট্রাশ’-এর সহযোগিতায় রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরখানে বজলুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকার ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি মানুষ এখানে বসবাস করছে। এর ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, যা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই স্পোগোমি গেমসের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বর্জ্য পৃথকীকরণ বা ওয়েস্ট সেগ্রিগেশন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। ছোটবেলা থেকেই যদি এ অভ্যাস গড়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের হাত ধরেই একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এই প্রতিযোগিতায় ৩৪টি দলের মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের সংগৃহীত বর্জ্য চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়, যেমন- বার্নেবল, নন-বার্নেবল, প্লাস্টিক বোতল এবং সিগারেট ওয়েস্ট। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয় এবং সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা ময়লা সংগ্রহের জন্য সময় পায় ৩০ মিনিট এবং সংগৃহীত বর্জ্য আলাদা করার জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ ২২ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রথম স্থান অর্জন করে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দল ‘৬বি২’।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখার জন্য এটি খুব ভালো একটি উদ্যোগ। এমন একটি কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।”

অনুষ্ঠানে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্তাসির মামুন। তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় যত্রতত্র ময়লা ফেলি, যা একদমই ঠিক নয়। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সবাই যদি নির্দিষ্ট জায়গায় বর্জ্য ফেলতে অভ্যস্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।”

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন