জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে আওয়ামী লীগের সহযোগী রাজনৈতিক শক্তি আখ্যা দিয়ে এসব দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জুলাই ঐক্য। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, যেসব দল ও ব্যক্তি নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যায় না।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। পুলিশি বাধায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে কর্মসূচি আটকে গেলে সেখানে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল মূলত আওয়ামী লীগেরই সহযোগী শক্তি। অতীতে এসব দলের ভূমিকার কারণে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফেরানোর চেষ্টা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত রাজনৈতিক শক্তিকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে বহন করতে হবে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কমিশন যদি জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়, তবে আগের কমিশনের মতো একই পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে। মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ আরও বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে কাজ করা।
জাতীয় পার্টি, ১৪ দল এবং এনডিএফ সংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনের সুযোগ দেওয়াকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, এ বিষয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটে ইতোমধ্যে রুল জারি হয়েছে। চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সব মনোনয়ন স্থগিত রাখার দাবি জানায় জুলাই ঐক্য।