শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫) গভীর রাতে ঢাকার ধানমণ্ডিতে অবস্থিত দেশের প্রাচীন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ছায়ানট’-এর ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী সমাজেও গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ শিল্প-সংস্কৃতিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। কিন্তু এখন সেই সব মূল্যবান ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গন- সব কিছুই পুড়িয়ে নষ্ট করা হচ্ছে। এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বারবার বিনোদন দুনিয়ার ওপর আঘাত আসছে, যা একেবারেই কাম্য নয়। জানি না এর শেষ কোথায়!”
টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এই হামলার ঘটনায় মর্মাহত হয়ে বলেন, “বিনোদন দুনিয়া সব ধরনের হিংসার ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। সেখানেও যদি মৌলবাদী চিন্তাভাবনা ঢুকে পড়ে, তবে এর থেকে দুঃখের আর কিছুই হতে পারে না।”
তিনি তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘মিতিন মাসি’র প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “যদি মিতিন মাসি আমাদের মাঝে থাকতেন, তিনি এই ধরনের অমানবিক ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের ধরতেন এবং নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষা করতেন।”
নাট্যকার অবন্তী চক্রবর্তী দেশের শিল্প-সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “দুই বাংলার শিল্পীদের যে ঐতিহ্যগত মেলবন্ধন ছিল, সেই সব দিন কি আর ফিরে আসবে? এই ঘটনার পর আমি ভীষণভাবে আশঙ্কিত। তবে আমার বিশ্বাস, সবার ওপরে মানুষ সত্য।”
ছায়ানট ভবনে হামলার পর শনিবার (২০ ডিসেম্বর, ২০২৫) রাতে একটি মামলা করা হয়। ছায়ানটের প্রধান ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০০ থেকে ৩৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।