যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) কার্যক্রম পরিচালনার ছয় মাসের মাথায় তাদের ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। হামাস–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহ পর সংস্থাটি তিনটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র স্থগিত করেছিল। সংস্থাটি এবার জানালো, জরুরি মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে তারা।
কার্যক্রম শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল সংগঠনটি। কারণ এটি জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি গাজায় ত্রাণ সরবরাহের চেষ্টা করেছিল। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো স্পষ্ট জানিয়েছিল, এই মডেল অনৈতিক এবং নিরাপত্তাহীন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত সামরিক অঞ্চলে ত্রাণকেন্দ্র স্থাপন করায় শত শত মানুষ খাদ্যের খোঁজে গুলিতে নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, শুধু মে থেকে জুলাই জিএইচএফ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে অন্তত ৮৫৯ এবং অন্যান্য ত্রাণরুটে ৫১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা কেবল হুঁশিয়ারি দিতে গুলি ছুড়েছিল।
তবে এর বিপরীতে জিএইচএফ বলেছে, তাদের সাইটে কোনো গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি এবং জাতিসংঘ ভুল তথ্য ব্যবহার করছে। সংস্থাটির পরিচালক জন অ্যাক্রি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত সিভিল–মিলিটারি কো–অর্ডিনেশন সেন্টার এখন জিএইচএফ এর মডেল গ্রহণ করে তা সম্প্রসারণ করবে।
হামাস জিএইচএফ এর বন্ধ হওয়াকে স্বাগত জানালেও বলেছে, সংস্থাটিকে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর দায় এড়াতে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, জিএইচএফ এর কাজ বন্ধ হওয়ায় তাদের ত্রাণ কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ তারা শুরু থেকেই এই সংস্থার সঙ্গে কাজ করেনি। তবে যুদ্ধবিরতির পর ত্রাণ প্রবেশ বেড়েছে। তবে জানা গেছে, ২১ লাখ মানুষের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত নয়।