গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চালু হয়নি। এর ফলে পৌর এলাকার মীরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন আবাসিক এলাকায় জমতে শুরু করেছে বর্জ্যের পাহাড়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ১৭ হাজার ১৬৮ জনের জন্য নির্মিত এই প্ল্যান্টটি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু লোকবল সংকট এবং প্রশাসনের অবহেলায় এক বছর পার হয়ে গেলেও এটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
প্ল্যান্টে ৫টি সিএনজিচালিত অটোভ্যান, ২টি মিনি ট্রাক এবং ২টি মানব বর্জ্য পরিবহনের ট্যাংকার থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে শহরের হাট-বাজার ও আবাসিক এলাকায় ময়লা জমছে এবং ড্রেনগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. খোকন রানা জানিয়েছেন, হস্তান্তরের পরও জনবল সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্ল্যান্ট কিছু সময় চালানো হলেও বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ময়লা পোড়ানোর ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ঈফফাত জাহান তুলি জানিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্ল্যান্ট চালুর পরিকল্পনা করা হবে।