ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহরসহ দেশের প্রায় সব বড় শহরে ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
রাজধানীর শাহবাগ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বায়তুল মোকাররম, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শাহবাগে দিনভর ‘আগ্রাসনবিরোধী সমাবেশ’ থেকে বিক্ষোভকারীরা ‘হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ ও ‘বিচার চাই’ স্লোগান দেন। জুমার নামাজের পর শাহবাগে জমায়েত আরও বাড়ে। সমাবেশে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম শাহবাগের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি চত্বর’ ঘোষণা করেন এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাও সমাবেশে বক্তব্য দেন। গণঅধিকার পরিষদের সেক্রেটারি রাশেদ খান বলেন, হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, হাদির শাহাদাত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে। পরিস্থিতির সার্বিক বিবেচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুমার পরের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়।
এদিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চার দফা দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়, যার মধ্যে হত্যাকারী ও মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকার বাইরে রাজশাহী, ঝিনাইদহ, বান্দরবান, হাতিয়া, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, ঝিনাইদহে দলীয় নেতাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং বান্দরবানে সাবেক মন্ত্রীর বাসভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় কফিন মিছিল এবং দেশের বহু স্থানে গায়েবানা জানাজা, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবিতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।