Ridge Bangla

ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল দেশ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সারা দেশে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে রাস্তায় নেমে আসেন ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীরা। বিচারের দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ, মিছিল ও বিক্ষোভে অংশ নেন এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।

রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসে। এর পরপরই রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরা। এতে শাহবাগের চারদিকের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা ‘আমরা সবাই হাদি হবো’, ‘হাদি ভাই মরল কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’- এমন নানা স্লোগান দেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা টিএসসি এলাকায় জড়ো হন। তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ হাদি নেই, কিন্তু এখন থেকে আমরা সবাই হাদি। তার রক্তের দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

রাজধানীর বাইরে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এতে উভয় পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

চট্টগ্রামেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নগরের খুলশী এলাকায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে একদল তরুণ অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় রাতের বেলা একটি মিছিল থেকে আওয়ামী লীগ আমলের এক সাবেক মন্ত্রীর বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। রাজধানীতে কয়েকটি গণমাধ্যম কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।

দেশজুড়ে চলমান এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ঘোষণা দেন, ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

This post was viewed: 46

আরো পড়ুন