জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের এমপি প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটগুলোতে হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে ইসরাত রায়হান অমি এবং তার ঘনিষ্ঠ রুপক নন্দীর নাম দেখা যায়। আবদুল হালিম আজাদ গ্রেপ্তার হলে এর পরিণতি ভালো হবে না উল্লেখ করে মেসেঞ্জার ও ফেসবুক পোস্টে হান্নান মাসউদকে উদ্দেশ্য করে সহিংসতামূলক নানা ইঙ্গিত করেন ইসরাত ও রুপক। গ্রেপ্তার হলে মাসউদকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণার মতো কথাও উল্লেখ করেন তারা।
এই খবর এমন সময়ে ভাইরাল হলো, যখন ওই একই রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়ে টানা সাত দিন লড়াইয়ের পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির নেতাদের জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে- এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তাই এই হুমকিকে নিছক কথাবার্তা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় যুবনেতা মো. ইউসুফ রেজার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এক চা-দোকানে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের দেওয়া বক্তব্যের পর থেকেই এই হুমকিমূলক মন্তব্য শুরু হয়। ওই বক্তব্যে চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগে অনেক জনপ্রিয় প্রার্থীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না- এমন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলেন তিনি, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে। এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইউসুফ রেজা।
আব্দুল হান্নান মাসউদ জানান, এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।