যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির মুখে ইরান যুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করেছেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা তাদের অগ্রাধিকার।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তুরস্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা দেশটির লক্ষ্য। একই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে বিশাল সামরিক বহর ইরানের জলসীমার কাছে অবস্থান নিয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী।
ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, আলোচনার চেয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, আমাদের লক্ষ্য ২০০ শতাংশ প্রস্তুতি নিয়ে দেশ রক্ষা করা।
সম্প্রতি ইরানি সেনাবাহিনী এক হাজার নতুন কৌশলগত ড্রোন বহরে যুক্ত করেছে। এগুলো আত্মঘাতী, যুদ্ধ, নজরদারি ও সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন। সেনাপ্রধান আমির হামাতি বলেন, হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত এবং যথাযথ জবাব দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং প্রয়োজনে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম। সরকার বেসামরিক প্রস্তুতিও বাড়াচ্ছে। সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে জরুরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। তেহরান শহরে ভূগর্ভস্থ পার্কিং শেল্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের এই প্রস্তুতি সামরিক উত্তেজনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।