যশোর জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে ‘টাক মিলন’কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিবির ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী জানান, মিলনের অবস্থান নিশ্চিত করে একটি বিশেষ টিম ঢাকায় অভিযান চালায়। গ্রেপ্তারের পর তাকে যশোরে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মিলনের বিরুদ্ধে অস্ত্র-মাদক, হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে সর্বমোট ১১টি মামলা রয়েছে।
এসব মামলার পাশাপাশি তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি ছিল। তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির পাশাপাশি গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ আরও নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত বছর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
ইতিপূর্বে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকায় যুবলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি হন মিলন।
২০২০ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় যশোর শহরের পালবাড়ি মোড়ে রয়েল কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ক্যাসিনো (জুয়া) ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ১২ জানুয়ারি দুবাই থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ দেশে ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মদ্যপ অবস্থায় তিন সহযোগীসহ আটক হয়েছিলেন মিলন।
গ্রেপ্তার হওয়া মিলন যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার বাসিন্দা রোস্তম আলীর ছেলে।