Ridge Bangla

সড়কপথে চাঁদাবাজি, হাইওয়ে পুলিশের একাধিক সদস্য নজরদারিতে

সড়কে প্রতিনিয়ত বাড়ছে চাঁদাবাজি। নামে-বেনামে বিভিন্ন অজুহাতে দিতে হচ্ছে চাঁদা। কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, আবার কখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মালিক-শ্রমিক সংগঠন পরিচয়ে সড়কে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা।

দাবিকৃত অর্থ প্রদান না করলে ক্ষেত্রবিশেষে আটকে রাখা হচ্ছে পণ্যবাহী যানবাহন। সবজির ট্রাক, মাছ, মাংস কিংবা অন্যান্য যেকোনো পণ্য হোক- একটি এলাকা থেকে অন্য এলাকায় প্রবেশ করলেই দিতে হচ্ছে চাঁদা। খুলনা বিভাগের পরিবহন সংগঠনের একজন নেতা বলেন, তিন টনের একটি ট্রাকে মেহেরপুর থেকে ঢাকায় পণ্য আনতে কমপক্ষে তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ পড়ছে।

এতে পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের দাম দুটিই বাড়ছে। কারওয়ান বাজারে কথা বললে আরও একাধিক ট্রাকচালক জানান, প্রতিদিন সবজি পরিবহন খাত থেকেই লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হচ্ছে।

গত ৩ জুলাই সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে অবৈধ পণ্যের অভিযোগ তুলে ৮০ হাজার টাকা আদায়ের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপরই যেন সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই নিয়ে রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহন চালকদের অভিযোগের কোনো শেষ নেই। সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি নিয়ে ব্যাপক অভিযোগের পর অবশেষে হাইওয়ে পুলিশের তিন শতাধিক সদস্যকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের কিছু ব্যক্তি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, গাজীপুর, চট্টগ্রামের পটিয়া ও আরও কয়েকটি এলাকায় অভিযোগ পেয়ে তদন্ত চলছে। গত ১৪ মাসে প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই করে দোষী সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতিবাচক খবরের পর পুলিশ সদর দপ্তর ছয় দফা নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ডিউটির সময় বডিওর্ন ক্যাম সবসময় চালু রাখা, কারণ ছাড়া দিনের বেলা এখানে সেখানে চেকপোস্ট না বসানো, রাস্তার পাশে নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে কাগজপত্র যাচাই, কোনো গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে ভ্যানে বা দূরে কোথাও না যাওয়া, নজরদারি জোরদার করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাদা পোশাকে মাঠে নামা ও স্পিডগান ব্যবহারে অতিরিক্ত সতর্কতা।

এ ছাড়া কোনো চাঁদাবাজকে হাতেনাতে ধরা গেলে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত মামলা করে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল ও ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রায় দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের ৭৩টি থানার কার্যক্রম রয়েছে। আরও ৬৮টি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই ইউনিটে কর্মরত সদস্য প্রায় তিন হাজার।

This post was viewed: 48

আরো পড়ুন