Ridge Bangla

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় জমজমাট জার্সি ও পতাকা বিক্রি

আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে তুমুল উন্মাদনা। এই ফুটবল জ্বরকে পুঁজি করে রাজধানীর বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে এখন জার্সি ও পতাকা বিক্রির ধুম লেগেছে।

প্রতিবারের মতো এবারও বিক্রির শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। তবে গুলিস্তানের অলিগলিতে ঘুরে আর্জেন্টিনার জার্সি বিক্রির পরিমাণ অন্য দলগুলোর চেয়ে তুলনামূলক বেশি চোখে পড়েছে।

আধুনিকতার স্পর্শে অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও (সামাজিক মাধ্যম) বিক্রি হচ্ছে জার্সি। ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ থেকে শুরু করে টিকটকে সমানতালে চলছে এই বেচাকেনা। অনেকেই বলছেন, সময় সংকট ও দূরত্ব অতিক্রমের চেয়ে ঘরে বসে অনলাইনে অর্ডার করাতেই বেশি সুবিধা।

রাজধানীর নিউমার্কেট ও গুলিস্তানের স্পোর্টস মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। যার বাইরে নই আমরাও। নিজের জন্য জার্সি কিনতে গিয়ে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঈদের পর থেকে চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ায় জার্সির দাম কিছুটা বেড়েছে। এমনকি সংকটের কারণে অনেক দোকানে ৯০০ টাকার ‘প্লেয়ার ভার্সন’ জার্সির বদলে ৭০০-৮০০ টাকায় ‘ফ্যান ভার্সন’ জার্সি বিক্রি হচ্ছে।

মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে প্রতি পিস জার্সি পাইকারিতে ৩০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং খুচরায় ৫০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু জার্সি বিক্রেতা ব্যবসায়ীরাই নন, এখন ব্যস্ত আছেন জার্সির পেছনে নাম ও নম্বর যুক্ত করার ব্যবসা করা দোকানিরাও।

বেশিরভাগ ক্রেতাকেই দেখা গেছে জার্সি ক্রয়ের পর বাড়তি ৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ করে জার্সির পেছনে নিজের পছন্দের নাম ও নম্বর লিখিয়ে নিচ্ছেন।

শুধু জার্সিই নয়, সমানতালে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা ও ফুটবল। কাপড় ও আকার অনুযায়ী একেকটি পতাকা ১০০ থেকে হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ আবার বাড়তি টাকা গুনে নিজের পছন্দমতো সাইজে পতাকা বানিয়ে নিচ্ছেন।

নিউমার্কেটের ফুটপাতে এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি এবার স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও পর্তুগালেরও চাহিদা রয়েছে। আবার কেউ কেউ এসে বিভিন্ন মুসলিম দেশের জার্সির কথাও জিজ্ঞেস করছেন। তবে পতাকার চেয়ে ক্রেতাদের মধ্যে জার্সির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি বলে জানান ওই বিক্রেতা।

অনলাইনের চেয়ে সরাসরি দোকানে এসে ক্রয়ে দাম কিছুটা সাশ্রয়ী হওয়ায় সশরীরে এসে কেনাকাটা করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন বেশিরভাগ ক্রেতা। দেখা যাচ্ছে উঠতি বয়সের যুবক ও তরুণরা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একত্রে মিলিত হয়ে জার্সি ক্রয় করতে আসছেন।

বন্ধুদের সঙ্গে কেরানীগঞ্জ থেকে গুলিস্তানে জার্সি ক্রয় করতে আসা সাকিব বলেন, ফেসবুক বা অনলাইন পেজগুলোতে দাম বেশি হওয়ায় তারা বন্ধুরা মিলে সরাসরি মার্কেটে এসেছেন। এখন দামদর করে নিজেদের পছন্দমতো জার্সি ক্রয় করছেন।

This post was viewed: 22

আরো পড়ুন